বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ৮টি উপায়!
বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ৮টি উপায়!
-হাবিবুন নাহার মিমি
বই পড়া খুবই ভালো অভ্যাস- এটা প্রায় সবাই জানে। যে পাঠ্যবইয়ের বাইরে আজ পর্যন্ত কোনো বই-ই পড়েনি, সে-ও জানে যে বই পড়া ভালো কাজ। অনেকেই বই পড়ার অভ্যাস করতে চায়, কিন্তু পড়ায় মনোযোগ ধরে রাখতে পারেনা বা দু-একদিন পড়ে আর পড়তে ইচ্ছে হয়না। যারা বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে চান কিন্তু কীভাবে এই সুন্দর অভ্যাসটি আয়ত্ত্ব করবেন বুঝতে পারছেন না, তাদের জন্যই আজকের এই লেখা।
বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ৮টি উপায়:
১. নির্দিষ্ট সময়ে বই পড়ার সময়সূচি তৈরি করুন এবং সেই সময়ে নিয়মিতভাবে বই পড়ুন। হতে পারে সেটা দিনের মধ্যে আপনার সবচেয়ে পছন্দের কোনো সময়। এতে ধীরে ধীরে বই পড়াটা আপনার একটি রুটিনে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।
২. আপনার পছন্দের বিষয় অনুযায়ী বই নির্বাচন করুন। যারা বই পড়ার অভ্যাস শুরু থেকে শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য সহজ ভাষায় লেখা রুচিসম্মত উপন্যাস, ভ্রমণকাহিনী, থ্রিলার বা গোয়েন্দা গল্প এগুলো খুব ভালো টপিক। সাধারণত থ্রিলার বা গোয়েন্দা গল্প বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। কারণ এধরণের গল্প পড়া শুরু করার পর মনে একটি আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়, "পরে কী হলো" তা জানার।
৩. এমন পরিবেশ নির্বাচন করুন যা শান্তিপূর্ণ এবং নিরিবিলি। একজন বইপোকা যেকোনো পরিস্থতিতেই বইয়ে ডুবে যেতে পারে, হোক সেটা কাঠফাটা গরম বা বাসের ভিড়। কিন্তু যে ব্যক্তি নতুন নতুন বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে চাচ্ছে তার জন্য নিরিবিলি পরিবেশ দরকার, নাহয় বইয়ের প্রতি সে মনোযোগ ধরে রাখতে পারবে না। একটি শান্ত পরিবেশে বই পড়া মানসিকভাবে একটি চমৎকার অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
৪. বই পড়ার সময় সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকুন। এটি আপনাকে বারবার ডিসট্র্যাক্ট করে দিবে আর আপনি বইয়ে মনোযোগ দিতে পারবেন না। যতক্ষণ সময় বই পড়বেন ততক্ষণ ফোন দূরে রাখুন। দূরে রেখেও কাজ না হলে কিপ মি আউট অ্যাপে টাইমার দিয়ে রাখতে পারেন, এতে করে ওই সময়টুকু ফোন লকড হয়ে থাকবে। আপনি চাইলেও নির্দিষ্ট সময়ের আগে ফোন আনলক করতে পারবেন না। এমন টপিকের বই নির্বাচন করুন যা পড়তে আপনার ভালো লাগে, তাহলে এতকিছুর দরকারই পড়বে না, বইয়ের কাহিনীই আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে রাখবে।
৫. প্রতিদিন কত পৃষ্ঠা পড়লেন তার হিসাব রাখুন। এতে আপনার বই পড়ার কতটা উন্নতি হচ্ছে নিজেই বুঝতে পারবেন। যেদিন যা পড়বেন তা থেকে শিক্ষণীয় কোনো বিষয়, ভালো লেগেছে এমন কোনো উক্তি ইত্যাদি ফেসবুকে বা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। ফেসবুক পোস্টের লাইক, কমেন্ট অথবা বন্ধুদের মন্তব্য আপনাকে আরো বই পড়তে উৎসাহিত করবে।
৬. বই পড়ার সময় লেখক কী বোঝাতে চাচ্ছেন সেটা নিয়ে ভাবুন এবং আপনার মন্তব্য ও প্রশ্ন নোট করুন। বইটি পড়া শেষ হলে এসব মন্তব্য ও প্রশ্নের সমন্বয়ে একটি বুক রিভিউ লিখতে পারেন বা আপনার বই পড়ুয়া বন্ধুদের সাথে আপনার প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। এটি আপনার স্মৃতি ও বুদ্ধিকে প্রখর করবে।
৭. বই পড়ার সময় মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলি থেকে দূরে থাকুন। এগুলি আপনার বই পড়ার ধৈর্যের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হতে পারে। এছাড়াও, ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলি দ্বারা সমস্যার সমাধান খুবই সহজ হয়ে যায় এবং এটি আপনার পড়ার অনুপ্রেরণা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। যখন আপনি দেখবেন আপনি যে টপিক নিয়ে বই পড়তে চাচ্ছেন সেটা গুগলের এক সার্চে বা ইউটিউবে ভিডিও আকারে আপনার সামনে চলে আসছে তখন আর ওই টপিকে গোটা একটা বই পড়ার আগ্রহ পাবেন না। তবে গুগল সার্চে পাওয়া যেকোনো আর্টিকেল অথবা ইউটিউবের যেকোনো ভিডিওর চেয়ে বই অনেক বেশি তথ্যসমৃদ্ধ ও গোছানো, যা আপনাকে একজন জ্ঞানী, চিন্তাশীল ও তথ্যপূর্ণ স্মার্ট ব্যক্তিতে পরিণত করতে পারে।
৮. বই পড়া নিঃসন্দেহে একটি ভালো অভ্যাস। আপনি একটি ভালো অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে বই পড়া শুরু করতে পারেন। তবে আমি আপনাকে আরেকটি টেকনিক শিখিয়ে দিতে চাই। মহান রাব্বুল আলামীন আল কুরআনুল কারীম নাযিলের সময় প্রথমেই আমাদের পড়তে বলেছেন। সেখানে তিনি এও বলে দিয়েছেন আমরা কী পড়বো। তিনি বলেছেন, "পড়ো তোমার প্রভূর নামে যিনি তোমায় সৃষ্টি করেছেন।" (সূরা আলাক, আয়াত ০১)
তো আপনি যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার এই নির্দেশ মানার জন্য বই পড়েন ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে চান, তাহলে আপনার এই নিয়তের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আপনাকে পুরস্কৃত করবেন ইনশাআল্লাহ। তবে হ্যা, পড়তে হবে আল্লাহর নামে, অর্থাৎ যেসব বই পড়লে ইসলামের জ্ঞান বাড়ে, আল্লাহর কথা মনে পড়ে, দ্বীনী ইলম চর্চা হয়, ঈমান আমলের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় এমন বই। এমন বই না যা অহেতুক কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া বা অসৎ উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে, যা পড়ে আপনি ইতিবাচক কিছুই শিখতে পারেন না অথবা যাতে হারাম বিষয়গুলোকে প্রমোট করা হয়েছে; যেমন তথাকথিত প্রেমের উপন্যাসগুলো।
তাহলে চলুন, শুরু করে দেওয়া যাক বইপোকা হওয়ার যাত্রা।

No comments